আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ফিলিস্তিনি বাড়িঘর ও সেখানকার জনগণকে লক্ষ্য করে ব্যাপক অভিযান চালানোর সময় দুই এলাকায় ১০০ জনের বেশি তরুণ ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা (WAFA) স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ৩০ জনেরও বেশি দখলদার সেনা ১৫টি সামরিক যান নিয়ে আজ্জুনের উত্তর দিকের প্রধান প্রবেশপথ দিয়ে শহরে অনুপ্রবেশ করে।
বাহিনীটি আশ-শারকি এলাকা, আল-মানসুর এলাকা, খাল্লেত আদ-দারবে, আল-মাকবারা এলাকা, আশ-শামিয়া এলাকা, খাল্লেত আল-তিনা এবং আল-ঘানাওয়ি এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়িতে সন্ত্রাসী অভিযান চালায়।
দখলকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে পরিচালিত বৃহত্তর সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে এসব অভিযান চালানো হয়। এ সময় দখলদার বাহিনী বিভিন্ন ফিলিস্তিনি এলাকায় আটক, তল্লাশি ও ঘটনাস্থলে জিজ্ঞাসাবাদ পরিচালনা করে।
অভিযান অব্যাহত থাকায় অবরুদ্ধ কালকিলিয়া; কালকিলিয়ায় বুধবার সন্ধ্যা থেকে দখলদার বাহিনী শহরটিতে তাদের অনুপ্রবেশ অব্যাহত রেখেছে।
মধ্যরাতের দিকে নাজ্জাল, কাফর সাবা, ওয়াদি স্ট্রিট এবং আল-তাব্বাল এলাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ও মহল্লায় দখলদার ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন করা হয়, এ এলাকাগুলো বুধবার সন্ধ্যা থেকে ছিল অবরুদ্ধ।
দখলদার বাহিনী কালকিলিয়ার দক্ষিণ প্রবেশপথ দিয়ে শহরে প্রবেশ করে এবং আল-তাব্বাল এলাকার কাছে ওয়াদি স্ট্রিটজুড়ে অবস্থান নেয়। তারা একটি বাণিজ্যিক দোকান ও কৃষিজমিতে অভিযান চালায় এবং ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকজন তরুণ ফিলিস্তিনিকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করে।
বাহিনীটি এলাকাটিকে সামরিকভাবে অবরুদ্ধ করে এবং শব্দবোমা, কাঁদানে গ্যাস ও তাজা গুলি ছোড়ে। এতে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরসহ বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হন।
অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে অভিযান ও ধ্বংসযজ্ঞ ছড়িয়ে পড়ছে; অন্যদিকে, অধিকৃত আল-কুদসের উত্তরে কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরের কাছে আল-মাতার স্ট্রিটে একটি বিশেষ ইউনিট অনুপ্রবেশ করার পর দখলদার বাহিনী এক ফিলিস্তিনি তরুণকে আটক করে।
দখলদার বাহিনী বেইত ইমরিনেও অভিযান চালায় এবং আটক ব্যক্তি দাওয়াস হাসুনের বাড়ি ঘেরাও করার পর সেটিতে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ভবনটি ও আশপাশের সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
তুবাসের দক্ষিণ-পূর্বে তাম্মুন শহরে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি সামরিক টহলদল প্রবেশ করে। এ সময় হানাদার ইসরায়েলি পদাতিক বাহিনী বিভিন্ন মহল্লায় মোতায়েন হয়ে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘরে অভিযান শুরু করে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে চলমান সামরিক অনুপ্রবেশের মধ্যেই এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি জনগণ আটক, বাড়িঘরে অভিযান, সম্পত্তি ধ্বংস এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধের মুখোমুখি হচ্ছে।
অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ফিলিস্তিনি সম্পত্তি ও কৃষিজমি লক্ষ্যবস্তু; এদিকে, আজ বৃহস্পতিবার ভোরে রামাল্লার উত্তরে আতারা গ্রামে হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা দুটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং উসকানিমূলক স্লোগান লিখে দেয়। এর আগে রামাল্লার উত্তরে দেইর নিজাম গ্রামে দখলদার বাহিনী শত শত জলপাই গাছ উপড়ে ফেলে।
ফিলিস্তিনিদের, তাদের সম্পত্তি, জীবিকার উৎস এবং কৃষি স্থাপনা ও পানির নেটওয়ার্কসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো লক্ষ্য করে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকার মধ্যেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
বারবার এসব হামলার ফলে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও পশুপালন-নির্ভর এলাকাগুলোতে এর প্রভাব বেশি, যেখানে জমি ও কৃষিসম্পদ দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
Your Comment